বসুন্ধরায় যাত্রা শুরু করল বিশ্বখ্যাত থাই কফি চেইন ‘ক্যাফে আমাজন’

থাইল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক কফি চেইন ব্র্যান্ড ক্যাফে আমাজন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করেছে। বসুন্ধরা গ্রুপের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ব্র্যান্ডটির ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর, তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান, ঢাকায় অবস্থিত থাইল্যান্ড দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত থিতিফর্ন চিরাছাওয়াদি, দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) অনুসর্ন কাউতিপবিত্তায়া ও হাঙ্গেরিয়ান-থাই চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মিস পোজ্জানা পানিয়াংভাইত।

পিটিটি ওআর এবং ক্যাফে আমাজন ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন লাইফস্টাইল বিজনেসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ক্রাইপিত প্রেমমানি, ক্যাফে আমাজন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড কমার্স ডেভেলপমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. থিতি সুওয়ানসাক, ক্যাফে আমাজন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিসেস উইলাই বুনচারোএনচাই, অয়েল রিটেইল স্ট্র্যাটেজিক মার্কেটিং ডিভিশন ম্যানেজার মিস পিথারা কাসেমসুভান, ক্যাফে আমাজন ইন্টারন্যাশনাল সেলস অ্যান্ড স্টোর ম্যানেজমেন্টের এরিয়া ম্যানেজার মি. উইথিত মানাকাসেথান এবং ক্যাফে আমাজন ইন্টারন্যাশনাল সেলস অ্যান্ড স্টোর ম্যানেজমেন্টের মার্কেটিং অফিসার মি. ক্রিস্ট রুংরুয়াংসাক।

অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্টস লি.-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন শেখ এহসান রেজা (অব.), বসুন্ধরা গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার জনাব জিয়াউল হক সিকদার এবং বসুন্ধরা গ্রুপের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট জনাব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের দূতাবাসের প্রতিনিধি, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম কম্পানি পিটিটি সিয়ামের শীর্ষ কর্মকর্তা, বসুন্ধরা গ্রুপের উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, প্রতিটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সেই ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ যাত্রার নতুন অধ্যায় রচনা করে। বাংলাদেশের জন্য আজ ক্যাফে আমাজনের যাত্রা তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় এমন অংশীদারিত্বে বিশ্বাস করে, যা শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, গ্রাহক, উদ্যোক্তা, সমাজ ও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করে। এই দর্শন থেকেই ক্যাফে আমাজনের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, বাংলাদেশ এখন এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজার। তরুণ, উদ্যমী ও বৈশ্বিক চিন্তাধারাসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ঠিক এমন সময়েই বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ক্যাফে আমাজনের বাংলাদেশে যাত্রা শুরু হলো।

দস্ফহদজফদ্গ

বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিফর্ন চিরাছাওয়াদি বলেন, ক্যাফে আমাজন থাইল্যান্ডের অন্যতম পরিচিত ও সফল ব্র্যান্ড। প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধারণ করা এর নকশা, উন্নতমানের কফি এবং টেকসই ব্যবসায়িক দর্শনের কারণে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্যাফে আমাজনের উদ্বোধন শুধু একটি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ নয়, বরং থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার আরও একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।

পিটিটিওআরের লাইফস্টাইল বিজনেসের প্রেসিডেন্ট ক্রাইপিত প্রিমনি বলেন, বাংলাদেশে ক্যাফে আমাজনের উদ্বোধন শুধু একটি নতুন কফিশপ চালুর ঘটনা নয়, বরং থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কফি শুধু একটি পানীয় নয়, এটি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে, ভাবনার আদান-প্রদান ঘটায় এবং সুন্দর স্মৃতি সৃষ্টি করে। ক্যাফে আমাজনকে এমন একটি জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে তারা কাজ করবেন, যেখানে মানুষ পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

হশশ

উদ্বোধনীর দ্বিতীয় পর্ব বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সর্বসাধারণ ও কফিপ্রেমীদের জন্য এই পর্বে থাকবে থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে থাইল্যান্ডে যাত্রা শুরু করা ক্যাফে আমাজন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল কফি চেইন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঁচ হাজারের বেশি আউটলেটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সতেজ কফি, প্রাকৃতিক পরিবেশে সাজানো আউটলেট এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবার জন্য ব্র্যান্ডটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

 

Source : বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, News 24, Banglanews24, আগুনবেলা